সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১২:৫৬ অপরাহ্ন

ব্রেকিং নিউজ
       
শিরোনাম :
শ্রমিক আন্দোলনে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে আড়াই ঘন্টা যান চলাচল বন্ধ  সোনারগাঁওয়ে যুবদল নেতার সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার নারীর বাড়ি ফিরতে ভয় মামলার কারণে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাজের গতি কমে যাচ্ছে- শিক্ষামন্ত্রী সোনারগাঁওয়ে নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে  যুবদল নেতাসহ দুইজন গ্রেপ্তার সোনারগাঁওয়ে বিএনপির  ঈদ পুনর্মিলনী ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত সোনারগাঁওয়ে ব্রাজিল সমর্থকদের বর্ণাঢ্য মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা সোনারগাঁওয়ে একটি শপিংমলের মোবাইল  ফোনের দোকানে দুর্ধর্ষ চুরি, আইফোনসহ ১৪৬ মোবাইল খোয়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গণমুখী বাজেটে সোনারগাঁওয়ে বিএনপির আনন্দ মিছিল সোনারগাঁওয়ে অবৈধ গ্যাস সংযোগে চুনা কারখানার মালিকের কারাদণ্ড ও জরিমানা বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়ন পরিষদে গ্রাম্য আদালতের বার্ষিক ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত 

সোনারগাঁওয়ে যুবদল নেতার সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার নারীর বাড়ি ফিরতে ভয়

নিজস্ব প্রতিবেদক, সোনারগাঁও নিউজ:
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে এক নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে স্থানীয় এক যুবদল নেতাসহ দুইজনকে গ্রেপ্তারের পর ওই নারী  আতঙ্কে নিজ বাড়ি ফিরতে পারছেন না । ভয় পাচ্ছেন। তিনি বর্তমানে স্বামী ও সন্তান নিয়ে অবস্থান করছেন নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালে। পুলিশ এক যুবদল নেতাসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে। পলাতক রয়েছে অজ্ঞাত আরেকজন অভিযুক্ত।
পুলিশ বলছে, ভুক্তভোগী পরিবার তাদের বাড়িতে ফিরতে চাইলে তাদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
সোনারগাঁও থানার ওসি (তদন্ত) মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন বলেন, গত শুক্রবার বিকেলে মামলার পর সন্ধ্যায় পুলিশ এজাহারনামীয় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে। পলাতক অপর আসামিকেও গ্রেপ্তারে তৎপরতা চলছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন জামপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম শহীদ (৪০) ও তার সহযোগী একই এলাকার শাহিন মিয়া (৩৮)।
পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের একটি গ্রামে ভাড়া বাসায় দুই সন্তান নিয়ে বসবাস করেন ওই দম্পতি। গত বুধবার বিকেলে রাজমিস্ত্রি স্বামী কর্মস্থলে থাকাকালে অভিযুক্তরা বাড়িতে প্রবেশ করে। অভিযোগ অনুযায়ী, দুই শিশুসন্তানের সামনেই ভাড়া বাড়ির রান্নাঘরে নিয়ে শহীদ ও তার দুই সহযোগী মিলে ওই নারীকে ধর্ষণ করেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় প্রভাবশালী কয়েকজন ব্যক্তি বিষয়টি সালিশের মাধ্যমে মীমাংসার চেষ্টা করেন। পরে শুক্রবার বিকেলে ভুক্তভোগী নারী সোনারগাঁও থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে। তবে থানায় মামলা দিতে গেলে বিএনপির এক প্রভাবশালী নেতা মামলা দিতে বাধা প্রদান করে। সেখানেও ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে বলে দাবি করেন ওই নারীর স্বামী। তবে তিনি নিরাপত্তার কারণে নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি।
ভুক্তভোগী ওই নারী বলেন, তার স্বামী রাজমিস্ত্রি কাজ করে। স্বামী ওইদিন কাজের সুবাদে ঘরের বাইরে ছিলেন। এ সুযোগ তার বাড়িতে ঢুকে দুই শিশু সন্তানের সামনে মুখ চেপে ধরে রান্নাঘরে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করে অভিযুক্ত তিনজন।
এদিকে গত শনিবার ভূক্তভোগীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষ হলেও নিরাপত্তাহীনতার কারণে তিনি বাড়ি ফিরতে সাহস পাচ্ছেন না। তার স্বামীর দাবি, মামলা করার পর এলাকায় ফিরে গেলে নানা ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হবেন। এছাড়া তার  পরিবারের সদস্যদের কাছেও বিষয়টি এখনো জানানো হয়নি। ফলে কোথায় আশ্রয় নেবেন তা নিয়েও দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। পুলিশ স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর তাদের হাসপাতালে রেখেই চলে যান।
ভূক্তভোগী নারীর স্বামী জানান, দুই কন্যা সন্তানদের নিয়ে তিনি পথেঘাটে অবস্থান করছেন। অভিযুক্তদের পরিবার ওই এলাকায় প্রভাবশালী। তারা সরকার দলীয় রাজনীতি করেন। ফলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তার করিয়ে আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। এ মামলার কারণে তাদের পরিবারের সদস্যেদের প্রাণ নাশের আশঙ্কায় আছেন। সংঘবদ্ধ ধর্ষনের শিকার তার স্ত্রীর অবস্থাও ভালো নেই। হাসপাতালে মুমূর্ষু অবস্থায় ভর্তি হয়ে  কাতরাচ্ছেন। পেটের ক্ষুধা আর স্ত্রীর অবস্থা দেখে তার মাঝেমধ্যে মনে হয় দুই মেয়েকে সাথে নিয়ে বাসের নিচে ঝাঁপ দেই। মনের দুঃখ, হতাশা আর দুঃখ চিরতরে নিবিয়ে দেই। সবাই আমার পরিবারের করুন পরিনতি দেখতে আসে। কেউ আমাদের টাকা-পয়সা বা খাবার দিয়ে সাহায্য  করে না।
ভুক্তভোগী নারীর শ্বশুরবাড়ি ঢাকার ডেমরা এলাকায়, অন্যদিকে বাবার বাড়ি চাঁদপুর জেলায়। কিন্তু দুই পরিবারের কেউই ঘটনা সম্পর্কে জানেন না। ফলে এ পরিস্থিতিতে সেখানেও যেতে পারছেন না বলে জানান তার রাজমিস্ত্রী স্বামী।
তবে সোনারগাঁও থানার পুলিশ পরিদর্শক জামাল উদ্দিন বলেন, ভুক্তভোগীর অভিযোগের পরপরই আমার দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছি। তারা নির্ভয়ে ওই গ্রামে থাকতে পারবেন, তাদের নিরাপত্তা পুলিশ দেবে। এমনকি স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়িকেও এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া আছে। যদিও তারা আতঙ্কের বিষয়টি আমাদেরকে এখনো জানান নি।
তিনি আরও বলেন, ভুক্তভোগী পরিবার যদি কোনো ধরনের হুমকি বা নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ জানায়, তাহলে পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। পাশাপাশি পুলিশের কোনো সদস্যের আচরণে তারা বিব্রত হয়ে থাকলে সেটিও তদন্ত করে দেখা হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার ও ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
পোস্টটি শেয়ার করুন

আপনার মতামত দিন

পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Recent Comments

No comments to show.
© All rights reserved © Sonargaonnews 2022
Design & Developed BY N Host BD